চলতি মৌসুমের ভরা বাজারে গাইবান্ধায় পাটের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। অন্তত গত ১০ বছরের মধ্যে ভরা মৌসুমে পাটের এমন দাম পাননি বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। উৎপাদন খরচ মিটিয়ে দীর্ঘদিন পর এবার ভালো লাভের মুখ দেখায় চরাঞ্চলসহ পুরো জেলার পাটচাষিদের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে, যদিও পুরোপুরি কাটেনি সিন্ডিকেটের খপ্পরে পড়ার আশঙ্কা।
সরেজমিনে গত শনিবার সকালে জেলার ফুলছড়ি উপজেলার ফুলছড়ি হাটে গিয়ে দেখা যায়, উৎসবমুখর পরিবেশে চলছে পাটের কেনাবেচা। ভোর থেকেই নৌকায় করে পাট নিয়ে হাটে আসছেন চরাঞ্চলের চাষিরা। হাটে মানভেদে প্রতি মণ পাট বিক্রি হচ্ছে সর্বনিম্ন ৩ হাজার ৮০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৪ হাজার ১০০ টাকায়। উদাখালি, উড়িয়া, ফজলুপুর ও কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নেও পাট শুকানো ও আঁশ ছাড়ানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা।
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিগত বছরগুলোতে পাটের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে তারা চরম হতাশায় ভুগেছিলেন। তবে এবছর পাল্টেছে সেই চিত্র। ফুলছড়ি হাটের পাটচাষি আব্দুস সালাম ও আবেদ আলী ব্যাপারী জানান, বর্তমান বাজারে সব খরচ বাদ দিয়ে কৃষকদের ভালো লাভ হচ্ছে। তবে এই ভালো দাম কতদিন টিকবে, তা নিয়ে কিছুটা শঙ্কা রয়েছে তাদের মনে। জামালপুর থেকে আসা পাইকারি ক্রেতা খোরশেদ আলম জানান, ভালো মানের পাট ৪ হাজার ৫০ থেকে ১০০ টাকা এবং মাঝারি ও নিম্নমানের পাট যথাক্রমে ৩ হাজার ৯০০ এবং ৩ হাজার ৮০০ টাকায় কেনা হচ্ছে।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর গাইবান্ধায় ১৭ হেক্টর বৃদ্ধি পেয়ে মোট ১৩ হাজার ৯৮৭ হেক্টর জমিতে পাট চাষ করা হয়েছে এবং উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩৪ হাজার ৯৮৭ টন। ২০২২ সালে ১৬ হাজার ৪৬০ হেক্টর জমিতে আবাদ হলেও পরবর্তীতে তা ক্রমান্বয়ে কমেছিল, যা এখন আবার ঘুরে দাঁড়াচ্ছে।
এদিকে কৃষকদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, প্রতি বছর ভরা মৌসুমে মিল মালিক ও ফড়িয়া ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কারণে কম দামে পাট বিক্রি করতে বাধ্য হন তারা। যখন কৃষকদের ঘরে পাট থাকে না, তখন দাম বাড়ে। তবে এবছর মিলারদের টপকে স্টোরকারী মৌসুমি ব্যবসায়ীরা মণপ্রতি ৩০০ টাকা পর্যন্ত বেশি দামে পাট কেনায় দাম বেড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। কঞ্চিপাড়ার কৃষক ফারুক হোসেন ও জাহাঙ্গীর আলম সরকার সরকারের পক্ষ থেকে শুরু থেকেই পাট ক্রয়-বিক্রয়ে নজরদারি এবং হাটে সরকারি ক্রয়কেন্দ্র চালুর দাবি জানিয়েছেন, যাতে কৃষকরা সব সময় ন্যায্যমূল্য পান।
উন্নয়ন সংগঠক এম সাদ্দাম হোসেন পবন মনে করেন, কৃষিনির্ভর এই জেলায় অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে পাট কেনার পাশাপাশি সরকারি পাটকলগুলো সচল ও পাটজাত পণ্যের বহুমুখী ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি। গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) আসাদুজ্জামান জানান, পাটের আবাদ বাড়াতে কৃষকদের বিনামূল্যে বীজ ও সার প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে এবং পাটের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব বিভাগকে একযোগে কাজ করতে হবে।

মন্তব্য করুন
মন্তব্য সমূহ
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!