জম্মু, কাশ্মীর ও লাদাখ অঞ্চলকে নিজস্ব সরকারি মানচিত্র অনুযায়ী দেখানোর ভারতীয় দাবিকে পুরোপুরি ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে পাকিস্তান। দিল্লির এই অবস্থানকে আন্তর্জাতিক সত্যের বিপরীত আখ্যা দিয়ে সোমবার এক কড়া বার্তায় পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তর স্পষ্ট জানিয়েছে, একক সিদ্ধান্ত বা জোরপূর্বক দখলের মাধ্যমে কাশ্মীরের আইনি পরিচয় পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। মুখপাত্র সাজ্জাদ হায়দার খান বলেন, জাতিসংঘের প্রকাশিত অফিসিয়াল মানচিত্রই কাশ্মীরের প্রকৃত আইনি অবস্থান নির্দেশ করে এবং বিতর্কিত এই অঞ্চলে ভারতের নিজস্ব মানচিত্র বা একক দাবির কোনো আইনি গ্রহণযোগ্যতা নেই।

পাক পররাষ্ট্র দপ্তরের মতে, কাশ্মীর সমস্যা জাতিসংঘের সবচেয়ে পুরনো অসংরক্ষিত বিবাদগুলোর একটি, যার একমাত্র গ্রহণযোগ্য সমাধান জাতিসংঘের অধীনে একটি নিরপেক্ষ গণভোট। এর মাধ্যমেই কেবল কাশ্মীরের জনগণ নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের সুযোগ পেতে পারে। একই সাথে কাশ্মীরে মানবাধিকার লঙ্ঘন রোধে বিশ্ব সম্প্রদায়কে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ইসলামাবাদ।

এদিকে বিশ্বজুড়ে মানচিত্র নিয়ে নতুন আলোচনার ঝড় উঠেছে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ‘ইকুয়াল আর্থ’ নামক নতুন বিশ্ব মানচিত্র গৃহীত হওয়াকে কেন্দ্র করে। গত ৪ সেপ্টেম্বর গৃহীত এই মানচিত্রে আফ্রিকার আয়তন তুলনামূলক বড় এবং উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের আকার ছোট করে দেখানো হয়েছে। বিশ্বের ১৬৪টি দেশ নতুন এই মানচিত্রের পক্ষে ভোট দিলেও যুক্তরাষ্ট্র এর বিরোধিতা করেছে। ভৌগোলিক মানচিত্র নিয়ে এই বৈশ্বিক বিতর্কের আবহেই কাশ্মীর ইস্যুতে নিজেদের পুরোনো অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বিশ্বমঞ্চে ফের সোচ্চার হলো পাকিস্তান।