মধুপুর উপজেলায় বিনামূল্যে শিক্ষার্থীদের বিতরণের জন্য বরাদ্দ করা নবম ও দশম শ্রেণির দুই হাজারেরও বেশি সরকারি পাঠ্যবই উদ্ধারের ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সন্ধ্যায় উপজেলার নরকোনা এলাকা থেকে প্রায় আটশ কেজি ওজনের মোট ২২৬২ পিস পাঠ্যবইসহ মো. ইব্রাহীম হোসেন নামের এক ভাঙারি ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়। ভ্যানে করে গোপনে বইগুলো অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার সময় স্থানীয় লোকজনের সন্দেহ হলে তারা ইব্রাহীমকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। পরে মধুপুর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বইগুলো জব্দ করে এবং তাকে থানায় নিয়ে যায়।
উদ্ধারকৃত বইগুলোর মধ্যে রয়েছে ছয় শ পিস ইংরেজি ব্যাকরণ, চার শ আটষট্টি পিস বাংলা ব্যাকরণ, তিন শ বারো পিস গণিত, এক শ পঞ্চাশ পিস বাংলা সাহিত্য এবং চার শ কুড়ি পিস বাংলা সহপাঠ। এই বইগুলো সবই ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের নবম ও দশম শ্রেণির সরকারি পাঠ্যবই। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই এই ভাঙারি ব্যবসায়ী বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিনামূল্যে বিতরণের সরকারি বই অবৈধভাবে সংগ্রহ করে বিক্রি করে আসছেন।
আটক ইব্রাহীমের প্রাথমিক দাবি অনুযায়ী, মধুপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের নৈশপ্রহরী তোফায়েল আহমেদ প্রতি কেজি কুড়ি টাকা দরে এই বইগুলো তার কাছে বিক্রি করেছিলেন। তবে একাডেমিক সুপারভাইজার মো. মহিউদ্দীন দাবি করেছেন যে তার অগোচরেই নৈশপ্রহরী বইগুলো সরিয়ে ফেলতে পারেন।
ঘটনার খবর পেয়ে মধুপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নঈম উদ্দীন তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং তাদের উপস্থিতিতেই বইগুলো জব্দ করা হয়।
মধুপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) বাবুল হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে সরকারি গুদাম থেকে বইগুলো কীভাবে বাইরে গেল এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে।
এ ঘটনায় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বাদী হয়ে মধুপুর থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, তদন্তে যার সম্পৃক্ততাই পাওয়া যাবে, তার বিরুদ্ধেই কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।