খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক পরিশ্রম ও মানসিক চাপের কারণে মানবদেহে রক্তে শর্করার মাত্রা সারাদিন একই থাকে না। তাই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাড়িতে গ্লুকোমিটারের মাধ্যমে নিয়মিত সুগার মাপা প্রয়োজন। তবে কোন সময়ে শর্করার মাত্রা কত থাকা স্বাভাবিক, সে বিষয়ে সঠিক ধারণা থাকা জরুরি বলে জানিয়েছেন ভারতের কলকাতার ডায়াবেটিস ও মেটাবলিজম রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. আশিস মিত্র।

রক্তে শর্করার মাত্রা সাধারণত দুটি প্রধান পরীক্ষার মাধ্যমে মাপা হয়— ১. ফাস্টিং ব্লাড সুগার (খালি পেটে): অন্তত আট ঘণ্টা না খেয়ে থাকার পর এই পরীক্ষা করা হয়। ২. পোস্ট-প্র্যান্ডিয়াল ব্লাড সুগার (খাওয়ার পর): খাবার গ্রহণের দুই ঘণ্টা পর এটি পরীক্ষা করা হয়।

গ্লুকোমিটারে শর্করার স্বাভাবিক মাত্রার তালিকা:

  • খালি পেটে (Fasting):

    • স্বাভাবিক: ১১০-এর নিচে (বিশেষজ্ঞদের মতে ৯০ থেকে ১১০-এর মধ্যে রাখা ভালো)।

    • প্রি-ডায়াবেটিস: ১১০ থেকে ১২৫।

    • ডায়াবেটিস: ১২৬ বা তার বেশি।

  • খাওয়ার দুই ঘণ্টা পর (PP):

    • স্বাভাবিক: ১৪০-এর নিচে (বিশেষজ্ঞদের মতে ১৪০ থেকে ১৬০-এর মধ্যে রাখা আদর্শ)।

    • প্রি-ডায়াবেটিস: ১৪০ থেকে ১৯৯।

    • ডায়াবেটিস: ২০০ বা তার বেশি।

  • গত তিন মাসের গড় (HbA1c) পরীক্ষা:

    • স্বাভাবিক: ৫.৭ শতাংশের নিচে।

    • প্রি-ডায়াবেটিস: ৫.৭ থেকে ৬.৪ শতাংশ।

    • ডায়াবেটিস: ৬.৫ শতাংশ বা তার বেশি।

বিশেষ সতর্কতা ও পরামর্শ:

চিকিৎসকের মতে, কেবল একবার খালি পেটে বা দুপুরের খাবারের পর সুগার মাপলেই সঠিক চিত্র পাওয়া যায় না। অনেক সময় সকাল বা দুপুরের সুগার স্বাভাবিক থাকলেও সকালের নাস্তা কিংবা রাতের খাবারের পর শর্করার মাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে যেতে পারে। তাই ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে বিভিন্ন বেলার খাওয়ার দুই ঘণ্টা পর সুগার পরীক্ষা করা উচিত।

এছাড়া রক্তে শর্করার মাত্রা ৭০-এর নিচে নেমে গেলে তাকে হাইপোগ্লাইসেমিয়া বলা হয়, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তাই শরীরের সুগার সব সময় ৮০-র ওপরে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।