মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র সংঘাতের মধ্যে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিভিন্ন দেশের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিলেও ভারত, চীন, ইরাক ও কাতারের জাহাজের জন্য বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা করেছে ইরান। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে দেশটির রাজনৈতিক সমীকরণের বড় পরিবর্তনের পরপরই তেহরান এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক কমিটির সহ-সভাপতি আমির হায়াত মোকাদ্দাম এই সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ভারত, চীন, ইরাক ও কাতার—এই চার দেশকে প্রণালিতে চলাচলের বিধিনিষেধ থেকে মুক্ত রাখা হয়েছে। এসব দেশের জাহাজ এখন অবাধে যাতায়াত করছে।

যে কারণে এই ছাড়:

  • ওষুধ আমদানি ও বাণিজ্য নিশ্চিত করা: ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ ও আন্তর্জাতিক সংঘাত থাকা সত্ত্বেও ভারত থেকে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি নির্বিঘ্ন রাখতেই নয়াদিল্লিকে এই সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

  • রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমর্থন রক্ষা: চীন ইরানের অপরিশোধিত তেলের প্রধান ক্রেতা এবং প্রধান অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক শক্তি। কৌশলগত সম্পর্ক জোরদার ও বেইজিংয়ের রাজনৈতিক সমর্থন ধরে রাখতেই চীনা জাহাজ চলাচলে কোনো বাধা রাখা হয়নি।

  • আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি কৌশল: তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে কাতারের গুরুত্ব এবং মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতায় ইরাকের সঙ্গে ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক বন্ধুত্বের কারণেই এই দুটি প্রতিবেশী দেশ বিশেষ সুবিধা পেয়েছে।

তবে বিশেষ সুবিধা পেলেও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর জাহাজগুলো সম্পূর্ণ বিনামূল্যে যাতায়াত করতে পারবে না। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেহরানের এই নমনীয়তা কেবল জলপথ ব্যবহারের অনুমতির জন্য; কোনো প্রকার নির্ধারিত ট্রানজিট ফি বা যাতায়াত মাশুল মওকুফের জন্য নয়।

উল্লেখ্য, পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে যুক্ত করা এই সংকীর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট ব্যবহৃত জ্বালানির প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েলি শক্তির মধ্যে পারস্পরিক হামলা শুরুর পর থেকে এই জলপথে নৌচলাচল চরমভাবে ব্যাহত হয়ে আসছিল। সংঘাত শুরুর পর বিভিন্ন জাহাজে হামলায় এ পর্যন্ত অন্তত ১৫ জন ভারতীয় নাবিক প্রাণ হারিয়েছেন। ভারত শুরু থেকেই কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের ওপর জোর দিয়ে আসছে।