বৈশ্বিক নানা অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও দেশে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই এবং আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ নিরাপদ অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) নতুন চেয়ারম্যান ড. মো. রফিকুল ইসলাম।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের সার্সন রোডে বিপিসির প্রধান কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সাংবাদিকদের সঙ্গে এক পরিচিতি ও মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা জানান। নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে যোগদান উপলক্ষে এই সভার আয়োজন করা হয়।
ড. মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “গত মার্চ থেকে জুলাই পর্যন্ত বেশি দামে তেল কিনে কম দামে বিক্রি করতে গিয়ে সরকারকে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকি দিতে হয়েছে। ডিসেম্বর পর্যন্ত হয়তো আরও ১১ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি লাগতে পারে, যা সরকারের আমদানি ব্যয়ের ওপর বড় ধরনের চাপ। তবে জনগণের সুবিধার কথা ভেবে সরকার এই চাপ সহ্য করছে।” জ্বালানি সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে বেসরকারি খাতে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির জন্য একটি নীতিমালা তৈরি করা হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি, বাব-এল-মানদেব এবং ইস্ট-ওয়েস্ট রুটে বৈশ্বিক নানামুখী সংঘাতের কারণে জ্বালানি খাতে চাপ থাকলেও বিপিসি তার সক্ষমতা দিয়ে তা মোকাবিলা করার চেষ্টা করছে। আশা করা যাচ্ছে, আগামী ডিসেম্বরে থার্ড টার্মিনাল চালু হলে জ্বালানি সরবরাহে আরও বড় গতি আসবে।
এলপিজি আমদানির বিষয়ে বিপিসি চেয়ারম্যান জানান, মাতাবাড়িতে এফএসইউ (FSU) স্থাপন করে ভিএলজিসি (VLGC)-র মাধ্যমে বাল্ক সাইজে এলপিজি নিয়ে আসার কাজ চলছে। স্বল্পমেয়াদে চলতি মাস শেষে এলপিজির একটি পার্সেল দেশে পৌঁছাতে পারে। আর দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বাল্ক আকারের বড় জাহাজটি চলতি বছরের শেষ নাগাদ (ডিসেম্বর বা জানুয়ারি) চলে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। বর্তমানে এর কারিগরি ফিজিবিলিটি স্টাডি চলছে।
সভায় বিপিসির অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
(তথ্যসূত্র: বাসস)