জয়পুরহাটে পারিবারিক কলহের জেরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দুলাভাইকে কোপাতে গিয়ে দুটি ধারালো হাসুয়াসহ শাকিল আহাম্মেদ (২৮) নামের এক তরুণ আটক হয়েছেন। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জয়পুরহাট ৪০০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের পুরুষ ওয়ার্ডে এ চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। পরে উপস্থিত লোকজন তাকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। আটক শাকিল কালাই উপজেলার ছত্রগ্রাম এলাকার বাসিন্দা এবং তার দুলাভাই মিনহাজুল ইসলাম ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কালাইয়ের ছত্রগ্রামের মিনহাজুল ইসলাম ও তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগমের মধ্যে পারিবারিক কলহের জেরে মারামারির ঘটনা ঘটে। এর জেরে শনিবার মিনহাজুল বিষপান করলে তাকে জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালের পুরুষ ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। বোনকে শারীরিক নির্যাতনের খবর পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ছোট ভাই শাকিল আহাম্মেদ দুই হাতে দুটি হাসুয়া নিয়ে সরাসরি হাসপাতালে ঢুকে পড়েন।

অভিযুক্ত শাকিল জানান, তার বোনকে প্রায়ই মারধর করতেন মিনহাজুল এবং শনিবারও নির্যাতন চালিয়ে তিনি নিজেই বিষপান করে হাসপাতালে ভর্তি হন। এ খবর পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে দুলাভাইকে কোপানোর উদ্দেশ্যেই তিনি অস্ত্র নিয়ে সেখানে যান। এদিকে ধারালো দুটি বড় হাসুয়া হাতে ওই তরুণকে ওয়ার্ডে ঢুকতে দেখে উপস্থিত সবার মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। শাকিল হন্তদন্ত হয়ে দুলাভাই মিনহাজুলের বেডের দিকে ধেয়ে গেলেও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার আগেই ওয়ার্ডে থাকা অন্যান্য রোগীর স্বজনেরা তাকে ধরে ফেলেন এবং অস্ত্র দুটি কেড়ে নিয়ে পুলিশে খবর দেন।

জয়পুরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরে আলম সিদ্দিকী জানান, দুটি হাসুয়াসহ ওই তরুণকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। বিষপান করে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা দুলাভাইকে কোপানোর চেষ্টার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।